জনক মুজিব

Price: 100 TK Discount:25%

জনক মুজিব

  • লেখকঃ আসুদুল্লাহ

প্রথম পালক-থেকে প্রকাশিত শিশুতোষ ছড়ার বই হাজার বছরের বঙ্গোপসাগরীয় সভ্যতায় বঙ্গদেশে যে কয়জন শনাক্তযোগ্য বীর ও লোকবীরের জন্ম হয়েছে তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অবিস্মরণীয় লোক পুরুষ। যার মনোকথার প্রকাশ ভঙ্গিতেই একটি জাতি একসঙ্গে বেঁধে ছিল বুক। এই গঙ্গেয় বদ্বীপের হরিকেল, সমতট, বঙ্গ, পুণ্ড্র, রম্যভূমির সাধারণ ও সরল মানুষগুলো জেগে উঠেছিল স্বপ্নের আত্ম-চেতনায়। যে চেতনা ধারণ করেছিল অনমনীয় বোধ এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পটভূমি। পৃথিবীর ইতিহাসে রাশিয়ার গ্রেট লেখক নিকুলাই গোগল ইউক্রেনের ভূমিদাসদের নিয়ে ‘তারাস বুলবা’ নামে যে উপাখ্যান বা আধুনিক উপন্যাস রচনা করেছিলেন শেখ মুুজিব ছিলেন সেই ঘরানার একজন সামন্তীয় মানসিকতার লোকবীর। যিনি সাধারণ সামন্তীয় পরিবার থেকে ওঠে এসে একটি জাতির কণ্ঠস্বর ও জাতিস্বর হয়ে উঠেছিলেন। সাধারণ মানুষের প্রতি যাদের মমতা থাকে, হৃদয়ভাঙ্গা দরদ থাকে তারাই পৃথিবীতে মহৎ হয়ে ওঠে। বিশ্ব-ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্বাধীনসত্তার সেই মানুষগুলোই তার জাতির জন্য উপহার দিতে পেরেছে নূতন কোন সুন্দর, নূতন কোন স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিজ নিজ অঞ্চলে। হাজার বছরের বাঁক পেরিয়ে বঙ্গ নামের এই গাঙেয় দ্বীপে যে জাতিসত্তা গঠিত হয়েছে তার ইতিহাসও এমন রক্তাক্ত, এমন অবাধ্য অনমনীয়। ক্রমে ক্রমে বাঙালি শব্দটিই হয়ে ওঠে একটি মানবিক সাম্যের অসাধারণ অভিব্যক্তি। জাতীয়তার বোধ তৈরি করতে এই অভিব্যক্তি এমন এক তুমুল উচ্ছ্বাসে মানুষকে টেনে নিয়েছে; একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রবীজ তখনই রোপিত হয়ে পড়ে। সেই রাষ্ট্রের জন্য অনেক অনেক রক্তশ্রম, অনেক অনেক রক্তের নাজরানা দিতে হয়েছে জেলে, জোলা, কৃষক, শ্রমিক, রিক্সাওয়ালা, ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ লোকনাগরিক, মধ্যবিত্ত ক্লীন ইমেজেধারি, স্কুল মাষ্টার, কলেজ শিক্ষক, বেকার যুবক-যুবতী, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া টগবগে তরুণ, এবং সর্বোপরি এদেশের পুষ্টিহীন গণ ও লোকমানুষকে। শেখ মুজিব ছিলেন এদেশের লোক ও গণমানুষের শেখ সাহেব, সেই শেখ সাহেবের দেওয়া ঐতিহাসিক রাজনৈতিক লোকভাষণটিই জাগিয়ে দিয়েছিল লোকবাঙালির স্বাধীনসত্তা । আঞ্চলিক টানে উচ্চারিত ঐতিহাসিক এই ভাষণের গুরুত্ব পৃথিবীতে তাই তুলনা রহিত এক ঘোরলাগা বাস্তবতা। যে ঘোর ছড়িয়ে দিয়েছিল এই দেশেরই একজন কৃষকের লোকসন্তান। এদেশের কাদা, ধূলি, ধানক্ষেত, ঘাসে ঢাকা মেঠোপথ, পাটক্ষেত, নদী, খাল, ঝিল, শাপলা ফুটা জলাশয়, দিগন্ত বিস্তারি ধমকা বিল, চলন বিল, উদাসী বাউল, আউল, সবুজ ক্ষেত, গরু, ছাগল, গোয়াল ঘর, ষড়ঋতুর বৃষ্টি, আখবাগান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, কিয়াঙ, গণানুষ ও লোকমানুষের মুখের ভঙ্গি, সরলতা ও কোমলতায় গড়া দৃঢ়তা, পাহাড়, টিলা উপত্যকা এবং বঙ্গোপসাগরীয় অবাধ আকাশ ও সাগরের সঙ্গে এই লোকবাঙালির মানে শেখ সাহেবের নিবিড় পরিচয় ঘটেছিল। মনোরঙে ও বহিরঙে বহুবর্ণে হাজার বছরের ক্ষত ও দাগ নিয়ে একজন পাতার বাঁশিওয়ালা শৈশব বুকে নিয়ে বাজিয়ে দেয় বাঙালাপুরানের বাঁশি। বঙ্গউপনিষদের সেই কালের পুরান যখন কণ্ঠে কণ্ঠে তুমুল ঢেউ তুলল তা হয়ে গেল বাঙালির জন্মসনদ। সেই মহান পুরুষকে ছোটদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে - প্রথম পালক একুশে বইমেলায় প্রকাশ করল - ‌‌‌‌জনক মুজিব নামে অসাধারণ এক বই। যে বইটিতে বঙ্গবন্ধুর পীর বংশের ইতিহাস থেকে বাঙালি জাতির জনক হয়ে উঠার কাহিনি পরিব্যাপ্ত হয়ে উঠেছে।